হাসিন জাহান
ঢাকা, বাংলাদেশ

আমি হাসিন। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে পৌঁছেছি জীবনের প্রায় মাঝ বরাবর। পথ চলতে চলতে অনেক কিছু দেখা হয়েছে, জানা হয়েছে, শেখা হয়েছে। অনেক সময় চোখের দেখার বাইরেও অনেক বিষয় অনুধাবন করেছি ভিন্নভাবে। প্রত্যেকটা মানুষের জীবনই বোধহয় এক একটা উপন্যাস। আমার জীবনের উপন্যাসের পাতাগুলো থেকে কিছু পাতা ছিঁড়ে ডিজিটাল স্মৃতির খাতায় জমা রাখার জন্য এই ব্লগ। আর তাতে যদি কারো ভালো লাগে, সেটা হবে বাড়তি পাওনা। একটাই জীবন, তাই এর প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠুক আনন্দময় আর আলোকিত!

খোঁজ করুন
খোঁজ করুন
আপন ভাবনা

একজন ভাল সন্তান হতে না পারার যন্ত্রণা

on
August 28, 2018

একজন ভাল মা হওয়া খুব কঠিন, তবে তারচেয়েও বোধহয় বেশী কঠিন -একজন ভালসন্তান হওয়া। মা হবেন -স্নেহময়ী, সর্বংসহা।এটাই স্বাভাবিক এবং এর ব্যতিক্রম চোখে পড়লেই আমরা বিচলিত হই।

ফেসবুকে মা দিবসে মায়ের প্রতিশ্রদ্ধা -ভালবাসা -কৃতজ্ঞতার কতই না পংক্তিনজরে আসে। একটু গভীরে গেলেই বোঝা যায়, মাকে ভালবাসা জানানোর পাশাপাশি রয়েছে নিজেদের অক্ষমতার প্রকাশ। মায়ের জন্য আরোও বেশী কিছু করতে না পারার বেদনা, প্রতিদান দিতে না পারার যন্ত্রণা।সন্তানের এই যন্ত্রণার পিছনের কথা হয়তো জানা হয়না!

একজন সন্তানের ‘প্রায়োরিটির’ তালিকা ক্রমাগতই পরিবর্তিত হতে থাকে। একসময় যেখানে প্রায় পুরোটা জুড়েই ছিলেন মা, ক্রমশঃ সেখানে যোগ হয় বন্ধু, স্বামী/স্ত্রী, বৃহত্তর পরিবার,সামাজিক সম্পর্ক -আরও কত কি! সবারই থাকে ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যাশা, আর কোন কিছুর কমতি হলেই চোখ রাঙ্গানি। প্রথম ধাক্কা শুরু হয় স্বামী/স্ত্রীর কাছ থেকে।হয়তো প্রথমেই ভেবে নেয়া, মাকে বুঝি একটুবেশি প্রাধান্যই দেয়া হচ্ছে। কাজেই ‘উনা’র মনরক্ষা করতে সন্তানকে অবলম্বন করতে হয় নানাকৌশল। মাকে ঘন ঘন দেখতে যাওয়া কিম্বা তাকে একটু বেশি সময় দেয়া হয়তো ‘তার’ পছন্দ না। তাই সংসারে অশান্তি এড়িয়ে মাকে খুশি রাখতে আবারও সন্তানকে করতে হয় অকারণ বাহানা -মাকে দেখাতে হয় নানা কাজের অজুহাত। মাও বড় অবুঝ, এত সহজ ব্যাপার-তাও কেন যে বুঝতে চান না।

মা হয়তো চান মেয়ে-জামাই অথবা ছেলে-বৌয়ের নিয়মিত উপস্থিতি, রান্না করে খাওয়ানোর তৃপ্তি। সমস্যা সেখানেও। ‘উনি’ হয়তোবা নিজের মা ছাড়া অন্যের মায়ের কাছে অতটা স্বস্তি বোধ করেন না। অগত্যা সন্তান আবারও ব্যস্ত হন ‘উনা’র অনুপস্থিতির যুতসই একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে!মায়ের আর্থিক সামর্থ্যে ঘাটতি থাকলে সেখানে আরেক বিড়ম্বনা। সদা সন্দেহ, সদা ভয়; পাছে জীবনসঙ্গীর রোজগারে ভাগ বসে!অতএব,সেখানেও চলে লুকোচুরি। আরও আছে।মায়ের অসুখে তার কাছে ক’রাতপার করবেন? সে তো নৈব নৈব চ, সে পাঠ তো বিয়ের সাথে সাথেই চুকে গেছে! হয়তো আরো জানা-অজানা, ছোট-বড় অনেক না বলা কথাই আছে সন্তানের জীবনে।

সে যাই হোক, মায়ের হাতে নিজের রোজগারের টাকা লুকিয়ে তুলে দেয়ার আনন্দ, মায়ের পছন্দের কিছু তার হাতে তুলে না দিতে পারারযন্ত্রণা, একজন সন্তান ছাড়া আর কে বুঝবেন? মায়ের শত অভিযোগ-অনুযোগ-অভিমানকে প্রশ্রয় দিয়ে শত প্রতিকূলতার মাঝে মাকে নীরবে ভালবাসার আনন্দ, মায়ের কাছে ভাল থাকার অভিনয় করে মাকে খুশি রাখার চেষ্টা একজন সন্তান ছাড়া আর কে করবেন?

হাসিন জাহান
৩ জুন ২০১৬

ফেইসবুক কমেন্ট - Facebook Comments
TAGS
2 Comments
  1. Reply

    Mukta Khanam

    September 3, 2018

    Absolutely Right Apa

  2. Reply

    sabrina

    October 15, 2018

    oshadharon

LEAVE A COMMENT